শিরোনাম
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : | ০৮:২৫ পিএম, ২০২১-০২-১৩
শহিদুল করিম শহিদ কক্সবাজার প্রতিনিধি :দীর্ঘ ২ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো সচল করা যায়নি রামু ও কক্সবাজার সদরের কৃষকের প্রাণখ্যাত বাঁকখালী রাবার ড্যাম।ফলে হুমকির মুখে পড়েছে ২ উপজেলার ২১ ইউনিয়নের অর্ধলক্ষ কৃষকের বোরো চাষাবাদ।
প্রায় ৫০ হাজার কৃষকের কান্না থামাতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিকল হওয়া রাবারড্যাম সচল করতে ঝিলংজা ইউনিয়নের চা৺ন্দেরপাড়ায় অবস্থিত দেশের প্রথম রাবার ড্যামটিতে নদীর উপর বাঁধ নির্মান চালিয়ে আসছে গেল দুই মাস যাবৎ।
তবে এখনো চালু নিয়ে শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারছেনা কেউ।অপরদিকে বোরো মওসুম শুরু হয়ে রোপার চারা রোপনের সময় ২০ দিন অতিবাহিত হয়ে গেছে । এখনো ২ উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে পানি না পৌছায় অনাবাদি পড়ে রয়েছে উক্ত বিস্তীর্ণ জমি।আশংকা করা হচ্ছে এ বছর জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কৃষক, বাঁধ নির্মানে দায়িত্বরত ঠিকাদারের সাথে আলাপকালে রাবারড্যাম চালু নিয়ে আশংকার বিষয়টি উঠে এসেছে।
সদর উপজেলা নিবার্হী কর্র্মকতা সুরাইয়া আক্তার সুইটি জানান, সদরের ঝিলংজার চাঁন্দেরপাড়ায় বাঁকখালী নদীর উপর নির্মিত রাবার ড্যামটি বিকল হয়ে যাওয়ায় নদীতে বাঁধ দিয়ে সচল করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। ঠিকাদার নিয়োগ করি যথাসময়ে ।
প্রথম দিকে স্টিমিট ভুলে বিশেষ করে ঠিকাদার সে সময় যে ষ্টেমিট করেছিল তারা সেটি পর্যাপ্ত মনে করেছিল।
কিন্তু কাজ করতে গিয়ে সেটি আরো জঠিল হয়।পরে আমরা রামু থেকে ঠিকাদারকে বড় ড্রেজার মেশিন কিনে দিয়েছি।
তাদের ধারনাগত ভুলের খেসারত কেন কৃষকরা দেবে। তিনি আশা করেন আগামি সপ্তাহের মধ্যে বাঁধ নির্মান শেষ হলে বোরো মওসুমে চাষাবাদ করা যাবে যদিও তা দেরি হয়ে গেছে।রামু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু মাসুদ সিদ্দিকী জানান, রামুর ১১টি ইউনিয়নের বোরো চাষ রাবারড্যামের পানি প্রবাহের উপর নির্ভর করে।
এখন রাবারড্যাম অকেজো থাকায় চাষ বন্ধ রয়েছে।রামুতে সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে ৪০ হাজার কৃষক চাষাবাদ করে।
কিন্তু বোরো মৌসুম শুরু হয় ডিসেম্বরে। রোপা রোপন শুরু হয় জানুয়ারিতে এখন চলছে ফেব্রয়ারি মাস।
তাহলে পানি এখনো জমিতে নেই।কৃষকরা কিভাবে চাষাবাদ করবে। তিনি জেলা প্রশাসকের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন।
কক্সবাজার সদর কৃষি কর্মকর্তা জাহেদুল আলম জানান, সদরে ১০ ইউনিয়নে বেশিরভাগ জমি চাষ হয় রাবারড্যামের পানি দিয়ে। এখনো জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে সদরের ৬৯৪৫ হেক্টর জমির অধিকাংশ অনাবাদি থাকার আশংকা রয়েছে।যদিও শেষ দিকে ড্যামটি সচল হলেও রোপার বয়স বৃদ্ধির কারনে ফলন ভালো হবেনা।
এদিকে বাঁকখালী রাবারড্যামের সংস্কার কাজে অর্থাৎ নদীতে বাঁধ দেওয়ার কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার মুহাম্মদ ইসমাইল ফারুক জানান, বাঁকখালী নদীর খনন কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে।
ফলে র্বতমানে গভীরতা বেশি হওয়ায় বাঁধ স্থাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।ইতোমধ্যে নদীর উভয়পাশে কাজ শেষ হয়েছে কিন্তু নদীর মাঝখানে ৮০ ফুট পর্যন্ত গভীর হওয়ায় বাঁধ নির্মাণ কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।ঠিকাদার জানান, জোয়ারের সময় পানির গভীরতা ৩০ ফুট এবং ভাটার সময় ১৫ ফুট থাকে।ফলে পানির প্রবাহের জন্য বাঁধের স্থায়িত্ব ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।তিনি নদীর মাঝখানে জিও ব্যাগ দিয়ে হলেও বাঁধ স্থাপন সম্পন্ন করবেন বলে জানান।
এদিকে রাবারড্যামের পানির অভাবে ১৩ হাজার হেক্টর জমির চাষাবাদ হুমকির মুখে দাবি করে রাবার ড্যাম পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী জানান, দ্রুত বাধ নির্মান না হলে অর্ধলক্ষ কৃষকের ঘরে কান্না থামবেনা।
বিশেষ করে ধানের দাম এ বছর বেশি পাওয়ায় কৃষকের মাঝে যে আনন্দ ছিল তা শেষ হয়ে যাবে। তিনি জেলা প্রশাসকের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান বলেন- আমরা এখনো আশাবাদী রাবারড্যাম সচলের বিষয়ে। কেননা ঝিলংজার বেশিরভাগ জমি এখনো অনাবাদী রাবারড্যামের পানির কারনে।
পিএমখালীর সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ বিকম বলেন- বাঁকখালী রাবারড্যামটি কৃষকের প্রাণ ।
যারা এখনো ড্যামটি চালুর ব্যাপারে অবহেলা করছেন তাদের উচিত কৃষকের চোখের পানি দিয়ে দেশের খাদ্যের জোগান হত্যা করার শামীল।তিনি ড্যামটি দ্রুত চালুর ব্যাপারে আরো সময়োপযোগি পদক্ষেপ জরুরি।
উল্লেখ্য রামুর ১১ ইউনিয়ন, সদরের ১০ ইউনিয়নের বোরো মৌসুমে চাষাবাদ নির্ভর করে বাঁকখালী রাবারড্যামের পানি সরবরাহের উপর । দীর্ঘ ২ মাস যাবৎ অতিগুরুত্বপূর্ণ ড্যামটি বিকল হলেও কারো ভ্রুক্ষেপও ছিলনা।
মৌসুমের কাছে এসে ড্যামটি চালুর উদ্যোগ গ্রহন করলেও সংশ্ষ্টি কর্তৃপক্ষের অবহেলা, সনাতনী পদ্ধতিতে বাঁধ নির্মান কাজ চালানো, কম বরাদ্দের অযুহাতে সময়ক্ষেপন করার কারনে ৫০ হাজার কৃষকের ভাগ্য র্বমানে হুমকির মুখে পড়েছে।
পাশাপাশি রাবারড্যামের পানি দিয়ে জমিতে সেচ কার্য চালানো শতাধিক স্কীম ম্যানেজার ও পড়েছে চরম বিপাকে।বোরো মৌসুমে অতিক্রান্ত হওয়ার পর ড্যাম চালু হলে এ বছর আর চাষাবাদ সুদুর পরাহত হওয়ার আশংকা করছেন কৃষকরা।১৫ দিনের মধ্যে চালু না হলেও অর্ধলক্ষ কৃষক আর বোরো চাষ করতে পারবেনা বলে দাবি স্কীম ম্যানেজার আবুল কাশেমের ।
কৃষকদের স্বার্থে এবং দেশের অর্থনীতির স্বার্থে এ ব্যাপারে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে জেলা
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : কাজী শহিদ,গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) পূবাইল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে অন...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীর মাধবদী ও আশপাশের এলাকায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঔদাসীন্যতা কিংবা রহস্য...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : আলম খান: জাকের পার্টি মৃত্তিকা খনন ফ্রন্টের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দ...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : রামগতি(লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা: ‘সত্য প্রকাশে আপসহীন’—এই নীতিকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরের রামগ...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : কাজী শহিদ,গাজীপুর প্রতিনিধি: “একটি সুন্দর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে—মাদককে না বলি, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি...বিস্তারিত
জিএসএসনিউজ ডেস্ক : : নিজস্ব প্রতিবেদক: বিভিন্ন সময়ে অসদাচরণ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসা...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 gssnews 24 | Developed By Muktodhara Technology Limited